সেই ‘হতভাগিনী’ আজ আর নেই!

ছাত্র-ছাত্রীরা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা দাঁড়িয়েছেন ২য় তলায়। যেন সবাই জাতীয় সংগীত গাইবার প্রস্তুতি নিচ্ছে! এ সময় রেজাল্ট হাতে উপস্থিত হলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। আর সঙ্গে সঙ্গেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন তিনি। যেন স্বজন হারানোর বেদনা।

দীর্ঘ সময় পর ধীরে ধীরে কান্না জড়িত কন্ঠে শিক্ষিকা জানালেন, স্কুলের একটা মেয়েই শুধু A+ পেয়েছে (শুধু A+ ই না, গোল্ডেন A+) আর সেই হতভাগিনী হলো শারমিন।

সে আর বেঁচে নেই। চলে গেছে না ফেরার দেশে।

স্কুল বন্ধ থাকার কারণে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীই জানতে পারেনি এ ঘটনা। গত ১ মে অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় শারমিন।

কথাগুলো বলার সময় অঝোরে চোখের পানি ঝরছিল শিক্ষিকার। শিক্ষিকার কথা শেষ হতে না হতেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে-মেয়েগুলোও সজোরে কাঁদতে শুরু করল। কেউ কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। কেউ বা বিলাপ করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

শিক্ষার্থীদের কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, শারমিনের বাবা গুদাম ঘাটের মাঝি। তার বাড়িতে ছিলো না কোন পড়ার টেবিল, ছিলো না তার প্রাইভেট পড়ার সামর্থ্য। দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে আসত শারমিন।

সে মাঝে মাঝে ফেরিঘাটে পানি ব্রিক্রি করত। আর এতো কিছুর পরেও সে JSC তে A+ পেয়েছিলো। যেটা ছিলো কিশোরগঞ্জের এই স্কুলে কারো প্রথম অর্জন।

আর এবারও পুরো স্কুলের মধ্যে সে একাই A+ পেয়েছে। কিন্তু এই খুশির দিনে হতভাগা শারমিন আর আমাদের মাঝে নেই।

স্কুল আজ যেন এক মহামূল্যবান সম্পদ হারিয়ে ফেলেছে। কত কষ্টে সে পড়াশোনা করেছে ভাবা যায়! শারমিনের বাবা তাকে নিয়ে কতো স্বপ্ন দেখত! আজ শারমিনের বাবার সব স্বপ্ন ধুলোয় মিশে একাকার!……