সবচেয়ে সুখী দেশে জীবন যেমন

জাতিসংঘের প্রকাশিত সর্বশেষ সুখী দেশের তালিকায় দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। দেশটির নাগরিকদের আর্থিক সঙ্গতি, জীবনযাপনের স্বাধীনতা, কম দুর্নীতি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও উদারতার মানদণ্ডে সুখী দেশের এই তালিকা তৈরি করেছে জাতিসংঘ। এই তালিকায় শীর্ষ দশে নেই ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা জাপানের মতো ধনী রাষ্ট্রগুলো।

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পালিত বিশ্ব সুখ দিবসে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের সুখী দেশের কথা শোনার পর অনেকের মধ্যেই আগ্রহ জাগতে পারে সে দেশের জীবনযাত্রা সম্পর্কে। বর্তমানে ফিনল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা ৫৪ লাখ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ১৬ জন মানুষ বসবাস করে ফিনল্যান্ডে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন জনসংখ্যা দিক দিয়ে ফিনল্যান্ডের অবস্থান তৃতীয়।

ফিনল্যান্ডে ঘন সবুজ অরণ্য ও প্রচুর হ্রদ রয়েছে। প্রাচীরঘেরা প্রাসাদের পাশাপাশি আছে অত্যাধুনিক দালানকোঠা। দেশটির বনভূমি এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এগুলিকে ফিনল্যান্ডের ‘সবুজ সোনা’ নামে ডাকা হয়।

ইউরোপের সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ড একটি। ফিনল্যান্ডের অর্থনীতির মূলে রয়েছে বৈদেশিক বাণিজ্য। দেশটিতে রয়েছে ইলেকট্রনিকস, গাড়ি এবং অন্যান্য ভারি যন্ত্রপাতির বড় বড় কারখানা। ফলে সেখানকার মানুষ ভালো আয় করে। ফিনল্যান্ড ইউরোপের সবচেয়ে নবীন রাষ্ট্রগুলির একটি হলেও এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যে সমুজ্জ্বল। ফিনল্যান্ডের সুনাম আছে- বিশেষত আধুনিক স্থাপত্যকলা ও শিল্পকারখানা ডিজাইনে।

সাউনা তথা ফিনীয় ধাঁচের বাষ্পস্নান বিশ্ববিখ্যাত এবং এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। ফিনল্যান্ডের মেরু অঞ্চলে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় সব সময় দিন থাকে। ‘মধ্যরাতের সূর্যের’ এই এই দিনগুলিতে ফিনল্যান্ডের নয়নাভিরাম উপকূলীয় এলাকাগুলোতে হাজার হাজার লোক নৌকা নিয়ে বেড়াতে যায়। অনেক পর্যটক রোমাঞ্চকর অভিযানের টানে ফিনল্যান্ডের মধ্যভাগের বনভূমিতে ছুটে যায়।